সিঙ্গুর নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারে এসে একথাই বললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরের জমিতে আর চাষ হওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি তাপসী মালিককেও প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার মুকুল রায় বলেন, “এখানে মাটির যা অবস্থা হয়ে রয়েছে, এখানে আর নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। চাষাবাদ হওয়ার মত জায়গা নেই। ফলে এখানকার মানুষ না পারছে ওদিকে যেতে না পারছে এদিকে আসতে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা এটা নিয়ে রাজনীতি করেছি। তবে এই রাজনীতির কারণে সিঙ্গুরের মানুষের কোনও লাভ হয়নি। বরং এখানকার মানুষের দুর্দশা বেড়েছে।”
কিন্তু, আপনিও তখন এই তৃণমূল দলেই ছিলেন। সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে মুকুল বলেন, “ অবশ্যই আমিও ছিলাম। আমি অনিচ্ছুক চাষিদের পক্ষে ছিলাম। তখন এই ইচ্ছুক অনিচ্ছুকের ব্যাপারটা খতিয়ে দেখিনি।”
সিঙ্গুরে মুকুলবাবু তাপসী মালিক প্রসঙ্গে বলেন, “তাপসী মালিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের লড়াই শুরু হয়েছে। যে যে জিনিসগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল, তারমধ্যে তাপসী মালিকের মৃত্যু একটা ইস্যু ছিল। আজ তাপসী মালিকের বাবা নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছেন এটা খুব অন্যায়। এটা হওয়া উচিত নয়। আমি মনে করি, তাপসী মালিককে আরও খানিকটা সম্মান দেওয়া উচিত ছিল।”
দিন কয়েক আগেই হুগলিতে তৃণমূলের প্রচার সেরে গেছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছিলেন, তাপসী মালিকের বাবাকে অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে। এর থেকে বেশি কিছু দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গ উঠতেই মুকুল রায় বললেন, “আসলে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তো অরূপবাবুরা ছিলেন না। ফলে সিঙ্গুর আন্দোলনে তাপসী মালিকের ভূমিকা যারা না জানে, তারা একথাই বলবে।”
অবশেষে প্রশ্ন আসে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যত নিয়ে। মুকুলবাবু বললেন, “বাংলায় গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে, এটা নিয়েই বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে কোনওদিনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ ১৬ হাজার আসনে জয়লাভ করেনি। এবার ১৬ হাজার আসনে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে। যতগুলো বুথ রয়েছে, পুলিশের সংখ্যা তার থেকে অনেকটাই কম। সুতরাং, মানুষ যে কীভাবে ভোট দেবেন, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এখানে একদিকে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথবাবু, একদিকে বেচারাম মান্না, আরেক দিকে রয়েছেন মানিক দাস। এরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে সিঙ্গুরকে যে কোথায় নিয়ে যাবেন তা আমার জানা নেই।”

No comments:
Post a Comment