সংবিধান বাঁচাও সমিতির ডাকে কলকাতার বুকে
ঐতিহাসিক মহামিছিলে সংবিধান বাঁচানোর লক্ষে আদিবাসী-এসসি-এসটি আর সংখ্যালঘুরা এবার ঐক্য গড়ে চরম হুঁশিয়ারি দিল মোদি-মমতার সরকারকে।
শনিবার দুপুরে শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে দুটি বৃহৎ মিছিল ধর্মতলাতে একত্রিত হয়ে রেড রোডে ড. বি আর আম্বেদকর মূর্তির সামনে এসে একত্রিত হয়। এই মিছিলে পা মেলান রাজ্যের বিভিন্ন সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী সংগঠনের বহু বঞ্চিত মানুষ ও ননেতৃবৃন্দ। মিছিল শেষে ড. বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা দেশের সর্বত্র শিশু নারী সহ দলিত ও মুসলিম আদিবাসী মেয়েদের ধর্ষন করা হচ্ছে কেন? এই নির্যাতনের তীব্র নিন্দাও করেন তাঁরা। আগামী দিনে রাজ্যে ও দেশে দলিত আদিবাসী মুসলিমদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে আন্দোলন করার অঙ্গীকার করেন নেতৃবৃন্দ। সমীর কুমার দাস ও ফারুক আহমেদ, ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা মহেব্বুলাহ হুসাইন,বীরেন্দ্রনাথ মাহাতো, পীযুজ গায়েন, মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, স্বপন কুমার হালদার, আবদুল মতিন, সুচেতা গোলদার, নজরুল ইসলাম, শরদিন্দু উদ্দীপন, মহঃ নুরউদ্দিন, সুব্রত বাঁটুল, প্রশান্ত বিশ্বাস, সজল মল্লিক, অনন্ত আচার্য সহ বহু এসসি, এসটি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু নেতা বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। এছাড়াও "সংবিধান বাঁচাও সমিতি"র কোর কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সুচিন্তিত বক্তব্য রাখেন। বিকেল চারটের সময় রাজ্যপালকে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। এসসি, এসটি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু নেতাদের মধ্যে পাঁচজন প্রতিনিধি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। এসসি, এসটি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের বঞ্চনার প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি তুলে দেন রাজ্যপালের হাতে এবং ডিটেল বক্তব্য তুলে ধরেন তাঁরা। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন, সমীর কুমার দাস, ফারুক আহমেদ, মহঃ কামরুজ্জামান, বীরেন্দ্রনাথ মাহাতো ও সুচেতা গোলদার। "সংবিধান বাঁচাও সমিতি"র ডাকে ২৮ এপ্রিল মহামিছিল ও সমাবেশে গণতন্ত্র ফেরাতে দলে দলে যোগ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ও দলিত-সংখ্যালঘুদের তরুণ-তুর্কী নেতা ফারুক আহমেদ বিশাল জনসভায় দুরন্ত বক্তব্য রাখেন। ফারুক আহমেদ তাঁর বক্তব্যে ও রাজ্যপালেরর কাছে যা তিনি তুলে ধরলেন তা পাঠক মনে ও আগত আন্দোলনকারীদের মনে ব্যাপক ভাবে দাগ কাটে। ফারুক আহমেদ এর লিখিত বক্তব্য তুলে ধরাছি, "সংবিধান বাঁচাও সমিতির ডাকে কলকাতার মহামিছিল ও সমাবেশে রাজ্যে ও দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে আমরা যে সচেতন হওয়ার ডাক দিয়েছিলাম তাতে দলে দলে হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে বিপুল সাড়া দেওয়ায় আমাদের প্রয়াস সার্থক হয়েছে বলে মনে করি। আমারা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিললাম। ২৮ এপ্রিল, শনিবার বিকেল চারটের সময় "সংবিধান বাঁচাও সমিতি"র পক্ষ থেকে। দেশে ও রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে এবং এসসি-এসটি আইন পরিবর্তনের প্রতিবাদে কয়েকদফা দাবিসম্পন্ন আবেদন তুলে দিয়ে আমরা আলোচনা করললাম রাজ্যপালের সঙ্গে। এসসি, এসটি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের বঞ্চনার অভিযোগ জানিয়ে তার প্রতিকার করার আবেদন রাখলাম রাজ্যপালের নিকট। এসসি, এসটি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুর প্রতিনিধি হয়ে আমরা পাঁচজন দেখা করে রাজ্যপালের কাছে সব তুলে ধরলাম। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত ১৫ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসায় আর কারও প্রাণ যেন না যায় সেই আবেদনও রাখলাম। আর রাজ্যপালের মাধ্যমে আমরা ভারতের রাষ্ট্রপতিকেও স্মারকলিপি দিলাম। গণতন্ত্র রক্ষা করতে সরকারকে বড় ভূমিকা নিতে হবে। রাজ্যপালকেও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে। দেশের কল্যাণে ও রাজ্যের মানুষের কল্যাণে সংবিধান বাঁচাও সমিতির ডাকে দেশে ও রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে আমরা বদ্ধপরিকর থাকব। এই প্রসঙ্গে কিছু কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছি। মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনকল্যাণ ও গ্রন্থগার দফতরের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ্ চৌধুরী আমাকে জানিয়েছিলেন, 'মঙ্গলকোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের নিরাপত্তা ও তাদের ভবিষ্যৎ সুরোক্ষিত রাখার স্বার্থে রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে আমার যে পুলিশি নিরাপত্তা ছিল তা আমি ছেড়ে দিয়েছি। এমন কি সরকারি গাড়িও আমি আর ব্যবহার করছি না।' রাজ্যের বিশেষ করে সাধরণ মানুষ বিশেষত্ব আর্থিকভাবে পিছিয়েপড়া মানুষের জীবনহানি প্রতিনিয়ত ঘটছে। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা আজ সঙ্কটের মুখে। সংবিধানের চতুর্থ স্থম্ভ বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিককুলও রেহাই পাচ্ছে না। এক ধরনের ভয় চারপাশ ঘিরে ধরেছে। নিরাপত্তা আজ যেন কারো নেই। তাই মন্ত্রী হিসেবে সরকার থেকে পাওয়া সিদ্দিকুল্লাহ্ চৌধুরীর নিজস্ব পুলিশি নিরাপত্তা তা তিনি ছেড়ে দিয়েছন। এমন কি সরকারি গাড়িও তিনি আর ব্যবহার করছেন না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি আজীবন লড়াই করেছিলেন এবং আগামী দিনেও তিনি তাই করবেন। সাম্প্রতিককালে তিনি ফুরফুরা শরিফের জনপ্রিয় পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গোটা দেশের দিকে একটু আলোকপাত করছি এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ঋণের দায়ে গত তিন বছরে ৩৮ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। দৈনিক ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে আত্মহত্যার ঘটনা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলি মোদি সরকার কৃষকদের কল্যাণে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যদিও লাভজনক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছে। কৃষকদের চেয়ে শিল্পপতিদের নিয়ে মোদি সরকার বেশি চিন্তিত। গণতন্ত্রে সরকারের চাবি থাকে জনতার হাতে এবং তাদের সরকারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া উচিত। দেশের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তারা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। কৃষকরা জমিতে সেচের জন্য সস্তা মূল্যে বিদ্যুৎ ও পানি পাচ্ছে না, খালে পানিও সরবরাহ হচ্ছে না। সরকারের কাছে কৃষি কমিশন গঠন করে তাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কৃষকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন শুরু করলাম। দুর্নীতির সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করছি শুনুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলছি, ‘মোদি নিজেই বলেছিলেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ (নিজেও ঘুষ খাব না, কাউকে খেতেও দেবো না) কিন্তু দুর্নীতির ঘটনা একনাগাড়ে প্রকাশ্যে আসছে। এরফলে তার কাজকর্মের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন মানুষের সচেতন হওয়ার সময়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন সরকারকে নির্বাচিত করা উচিত যারা সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। কেন্দ্রীয় সরকার জনলোকপাল বিল দুর্বল করেছে বলেও মনে করি। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে 'কৃষকবিরোধী সরকার' বলে অভিহিত করছি। আমাদের এই মন্তব্যের সঙ্গে আপনারা সহমত পোষণ করবেন আশা রাখি। আমরা যথার্থ এবং সঠিক কথাই বলছি। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকবিরোধী ও আমজনতাবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। আমরা দেখছি প্রত্যেকদিন ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঋণের দায়ে গত তিন বছরে ৩৮ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে আত্মহত্যার ঘটনা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সরকারকে তো কৃষকবিরোধী সরকার বলতেই হয়। এই সরকারের আমলে একেরপর এক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভারতের কেন্দ্র সরকার জনবিরোধী সরকার। বাংলায় ও ভারতে নতুন সূর্য ওঠার ডাক দিয়েছি আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বঞ্চিত মানুষ ও নেতাদের পাশে নিয়ে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দলিত ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস।

No comments:
Post a Comment