মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: গাড়ি পাচার করে মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল বাংলাদেশি গাড়ি পাচারকারি গ্যাং। আর সেই লোভেই পা দিয়ে ওলা বুক করে ক্যাব চালক সাধন হালদারকে খুন করে খালধারে ফেলে দিয়েছিল খুনিরা। ঘটনার ১০ দিনের মাথায় গোটা গ্যাংকেই ধরে ফেলেছে পুলিস। আর উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া গাড়িটিও। সোনারপুরের ক্যাব চালক খুনের ঘটনার এভাবেই কিনারা করেছে পুলিস।
ধৃতরা হল বাদল মিশ্র, আকাশ চক্রবর্তী, চয়ন বিশ্বাস, দীপঙ্কর দত্ত এবং আতা–এ–রাগবি। এদের সকলের বয়সই ২০ বছরের মধ্যে। তার মধ্যে চয়ন ও দীপঙ্কর বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। আর আতা–এ–রাগবির বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে। সোনারপুরের বাসিন্দা আকাশ ও বাদলকে এরাই গাড়ি পাচার করে মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের টোপ দিয়েছিল বলে জেরায় তারা জানিয়েছে। সোনারপুরের কামরাবাদ থেকে ওই দুজনকে ধরেছে পুলিস। বাকিদের ধরা হয়েছে অন্য জায়গা থেকে। খোয়া যাওয়া গাড়িটিকে উদ্ধার করা হয়েছে হুগলির ডানকুনি এলাকা থেকে। পুলিস জানিয়েছে, গত ৮ মে কলকাতা থেকে ৭ আসনের একটি ওলা গাড়ি বুক করে তাতে করে ওই যুবকরা সোনারপুরের খেয়াদহে আসে। তারপর সেখানেই নির্জন জায়গায় ওই ক্যাবচালককে খুন করে তার দেহ খাল পাড়ে ফেলে দিয়ে ওই গাড়ি নিয়ে খুনিরা পালায়। তারা গাড়িটি নিয়ে সোজা চলে যায় নদীয়ার কল্যানীতে। সেখানে ঘোরাঘুরি করার পর আবার ওই গাড়ি নিয়ে তারা চলে আসে হুগলির ডানকুনিতে। সেখানেই ওই গাড়ি রেখে তারা চলে যায় নিজেদের বাড়িতে। ক্যাব চালকের বাড়ি এয়ারপোর্ট থানার নারায়নপুর এলাকায়। তার পরিবারের লোকজন ক্যাব চালক বাড়ি না ফেরাতে তারা এয়ারপোর্ট থানায় নিখোঁজ অভিযোগ করেন। পরের দিন সোনারপুরের খেয়াদহ খাল পাড় থেকে ক্যাব চালক সাধন হালদারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সোনারপুর থানার পুলিস এবং বারুইপুর জেলা পুলিসের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ ঘটনার তদন্তে নামে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বাদলকে সোনারপুরের পাওয়ার হাউস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারপর এক এক করে ওই গ্যাংয়ের সকলেই পুলিসের হাতে ধরা পড়েছে। ধৃতদের জেরা করে পুলিস ডানকুনি থেকে খোয়া যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার করেছে। বারুইপুর জেলা পুলিসের সুপার অরিজিৎ সিনহা জানান, ধৃতদের জেরা করে আরও বাংলাদেশী গাড়ি পাচারকারিদের সন্ধান করা হচ্ছে।


No comments:
Post a Comment