চাঁদনী, পূর্ব মেদিনীপুর: আজও সেদিনের আতঙ্ক চোখের সামনে থেকে মোছে নি। টানা দু দিন জোটেনি এক মুঠো ভাত।
বুধবার পূন:নির্বাচনের দিনও আতংকে আছে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের তরঙ্গখালি গ্রামের তপশীলি পাড়ার বাসিন্দারা। চোখের জল মুছতে মুছতে বাসিন্দারা বলেন সোমবার ১৪ মে ভোটের দিন সকাল থেকে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চলছিল। বিকেল চারটে নাগাদ বাইক বাহিনী এসে বোমাবাজি করতে শুরু করে আর সি পি এম প্রার্থী কল্যাণী দাসকে মারধর করে। ভোটাররা ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটতে শুরু করে। চোখের জল মুছে রঞ্জিতা মল্লিক বলেন আমি আমার বয়সে এই রকম দেখিনি। একজন মহিলাকে এই ভাবে মারধর করতে দেখে এগিয়ে যাই, আমাকেও মারে ওরা।
তরঙ্গখালির ঐ তপশীলি পাড়াটা সি পি এম অধ্যুষিত বলেই সবাই জানে। প্রায় ২০০ ভোটার আছে এখানে। বিজয় মল্লিক রঘু দাস সন্ধ্যা দাসরা বলেন,সোমবার থেকে না খেয়ে আছি দু দিন ধরে গোটা এলাকা জুড়ে বাইক বাহিনীর দাপট রাতে বোমাবাজি। ভয়ে অনেকেই বাড়ি ছাড়া ছিলো। বুধবার ভোটের দিন ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল শাসকদলের পক্ষ থেকে মাংস ভাতের ব্যবস্থা আর মহিলাদের শাড়ি দেওয়া হচ্ছে। দু দিন পরে ভাত পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে দুমুঠো মুখে তুললো তারা। মানবিকতার অন্য মুখ দেখা গেলো। না ,ভাত কাপড় দিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য তারা বলতে আসেনি। ভাত খেয়ে চুপচাপ ভোট না দিতে যাওয়ার কথাই বলতে এসেছে। এযেন মানবিকতার পাশে ভয়ের ছোঁয়া। ভোট দিতে পারুক আর নাই পারুক দু দিন পর ভোট প্রাপক নয় ভাতের মুখ দেখে খুশি তরঙ্গখালির তপশীলি পাড়ার ভোটাররা।
তবে আজও তরঙ্গখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩১ নং বুথে গিয়ে দেখা গেলো ভোটার নেই সংবাদমাধ্যমকে ছবি না তোলার হুশিয়ারী। যাক ভোট দিতে না পারুক দু দিন পর পেট ভরে দুটো ভাত খেতে পেরেছে এটাই বড়। না ভাতের বদলে ভোট বিক্রি হল তাদের আজ আর বোঝার ইচ্ছে নেই। কারন সেদিনের আতংকের থেকে এটা বোধ হয় অনেক ভালো। নির্বাচন কমিশন থেকে রাজনৈতিক মহল শাসকদলের এই মানবিকতাকে কি বলবেন।

No comments:
Post a Comment