এক তরুনীকে আটকে রেখে গণধর্ষনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া তারকেশ্বর লাইনের হরিপাল ও মালিয়া স্টেশনের মাঝে লাইন পাড়ে। নির্যাতিতা বন্ধু মালিয়া স্টেশনের সিগন্যাল পোষ্ট ম্যানের দায়িত্বে থাকা এক রেলকর্মীকে তার বান্ধবীর উপরে অত্যাচারের কথা জানালে ওই রেল কর্মী পুলিশে খবর দিলে হরিপাল থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে।ওই দিন রাতেই হরিপাল থানার মালিয়া থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বাড়ি হরিপাল থানার মালিয়াতে। বৃহস্পতিবার চন্দননগর আদালতে এসিজেএম জয় শঙ্কর রায়ের এজলাসে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এদিন নির্যাতিতা চন্দননগর আদালতে গোপন জবানবন্দী দেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নির্যাতিতা তরুণী তার এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে মালিয়া স্টেশনে গিয়ে ছিল। রাত সাড়ে নটা নাগাদ মালিয়া স্টেশনের রেল লাইন ধরে তারা হরিপালের দিকে আসছিল।ওই সময়ে সিগন্যাল পোষ্টের কাছে চার জন অঞ্জাত পরিচয় ব্যাক্তি তাদের পথ আটকায়।নানা ধরনের প্রশ্ন করে তাদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। ওই সময়ে তরুনীর ছেলে বন্ধুর সঙ্গে তাদের বচসা বেধে যায়। তখন চারজন মিলে তরুনীর বন্ধুকে মারধরে করে মোবাইল মানি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপরে তাকে আটকে রেখে ওই চার ব্যক্তি তরুণীকে জোর করে রেল লাইনের সিগন্যাল পোষ্টের থেকে খানিকটা দূরে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় ধর্ষন করে বলে অভিযোগ। ধর্ষনের পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চম্পট দেয়।
হরিপাল থানার পুলিশ এসে নির্যাতিতা তরুনী ও তার বন্ধুর থেকে ঘটনার বিবরন শোনেন।এরপরেই হরিপাল সিঙ্গুর তারকেশ্বর থানা এলাকার পুলিশকে সন্দেহভাজন চারজনের বিবরন জানিয়ে দেয় হুগলি গ্রামীন পুলিশ।রাতেই পুলিশ মালিয়া ও হরিপাল এলাকায় তল্লাসী চালিয়ে মালিয়ার বাগপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তদের বয়স ২৫ থেকে ৩০এর মধ্যে। রাতেই ওই তরুণী তার বন্ধুকে গ্রামীন হাসপাতালে চিকিৎসা করায় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি ধর্ষনের ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের ১৪ দিনের জেল হেপাজত হয়েছে। নির্যাতিতার ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment