আয়না চিরকালই মানুষকে কৌতূহলী করেছে, এজন্যই এই আয়না নিয়ে প্রচলিত আছে নান রূপকথা, অভিশাপ এবং কুসংস্কারের কাহিনী, আছে চমকপ্রদ কিছু কথাও। আসুন জেনে নেই এমনই কিছু তথ্যঃ
প্রাচীন রোমে এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, আপনি যদি বাড়ির পুরনো কোনো আয়না ভেঙ্গে ফেলেন তাহলে পরবর্তী অন্তত ৭ বছর পর্যন্ত আপনার দুর্ভাগ্য কাটবে না।
রোমানরা এটাও বিশ্বাস করতো পুরনো কোনো আয়না ভেঙ্গে যাওয়া মানে আপনি আপনার ভেতরে থাকা পবিত্র আত্মাকেই নষ্ট করে ফেলেছেন।
জিউস এর লোকজন বাড়িতে কারো মৃত্যু হলে সবসময় সেই বাড়িতে থাকা আয়নাগুলি ঢেকে রাখতো, তাদের বিশ্বাস ছিল মৃতদেহ থেকে পবিত্র আত্মাকে বন্দি করে রাখার ক্ষমতা আছে আয়নার। আর একবার যদি মৃত ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে, তাহলে কিছুতেই সেটি আর পরলোকে যেতে পারবে না!
আয়না আপনাকে নিয়ে যেতে পারে হ্যালুসিনেশনের দুনিয়ায়। একটা ছোট্ট পরীক্ষা করে দেখা যাক। একটা অন্ধকার ঘরে বড় আয়নার সামনে দাঁড়ান, তবে শুধুমাত্র হাতে একটা মোমবাতি এমনভাবে ধরে রাখুন যেন আপনার মুখের ওপর পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো পড়ে। এবার আয়না থেকে ১ মিটারের ব্যবধানে দাঁড়ান এবং একটানা অন্তত মিনিট দশেক নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকুন! নিজেকে ছাড়া আর কিছু কি দেখতে পেলেন?!
আয়না শুধুমাত্র অবয়ব বা ছবি-ই নয়, শব্দও প্রতিফলিত করে। এই ধরণের আয়নাগুলিকে বলা হয় “অ্যাকুয়িস্টিক মিরর”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে এই আয়নাগুলি শত্রুপক্ষের বিমানের শব্দতরঙ্গ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হত।
ফ্যান্টাসির খাতিরে অনেকেই ভেবে থাকেন আয়নার মধ্য দিয়ে “টাইম ট্র্যাভেল” করা সম্ভব!
আয়নায় আমরা নিজেকে দেখে চিনতে পারবো- এটা তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, তাই না? কিন্তু কারো কারো কাছে এই সহজ জিনিসটি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, মানে তারা আয়নায় নিজেকে দেখলে চিনতে পারে না! বাচ্চাদের কথাই ধরা যাক, ছোট বাচ্চারা তো তাদের ২৪ মাস বা ২ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত বুঝতেই পারে না আয়নায় কাকে দেখছে!
এই ‘নিজেকে আয়নায় চিনতে পারা’র পরীক্ষাটি বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে চালিয়েছিলেন পশুপাখিদের ওপরও, যেখানে প্রথমবারেই পাশ করতে ব্যর্থ হয় গরিলা। তবে কেউ কেউ আবার উতরে গেছে পরীক্ষা দিয়ে, এদের মধ্যে আছে বেবুন, শিম্পাঞ্জী, কয়েক প্রকারের পাখি এবং ডলফিনেরা!

No comments:
Post a Comment