খুন তৃণমূল কর্মী! তীর হার্মাদবাহিনীর দিকে - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 6 May 2018

খুন তৃণমূল কর্মী! তীর হার্মাদবাহিনীর দিকে



এক তৃণমূল কর্মীকে খুন করার অভিযোগ উঠল সিপিএম ও কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম নয়ন মণ্ডল (২০)।শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের শ্রীপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারগঞ্জ গ্রামে। এই ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুখুরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নয়ন রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিল। শনিবার রাতে এলাকার তৃণমূল প্রার্থী সেরিনা বিবির হয়ে নির্বাচনী প্রচার শেষে এক আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিল। রাত ১২টা নাগাদ সেখান থেকে বাইকে চেপে নয়ন বাড়ি ফিরছিল। তখন রাস্তায় তাঁর পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। এরপর খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে। নয়নের মাথায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থানেই মারা যান সে। দুষ্কৃতীরা সেই সময় বোমাবাজিও করে বলে অভিযোগ।


বোমার শব্দে গ্রামবাসীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুখুরিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থানে যায়। নয়নের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

নয়নের পরিবারের অভিযোগ, শ্রীপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। তৃণমূল করার জন্য গতকাল সকালেই এলাকার কংগ্রেস ও সিপিএম কর্মীরা নয়নকে খুনের হুমকি দিয়েছিল। এই ঘটনায় নয়নের পরিবারের তরফে আবদুল কুদ্দুস, মাসুদ আলম, সাদেক আলি সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

আজ সকালে মালদা মেডিকেলে যান রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা, কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ ও জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে মালদায় শান্তি ছিল। নয়নের বাবা কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছেন। সেই চাকরিটা নয়ন পেত। তার জন্য সে তৈরি হচ্ছিল। শ্রীপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত আমাদের হাতেই ছিল। এবারও আমরাই জিতব। আর সেকারণেই কংগ্রেস ও CPI(M) নয়নকে খুন করল।”

শশী পাঁজা বলেন, “এই নিম্ন রাজনীতির প্রতিবাদ করি আমরা। আমরা সবাই নয়নের পরিবারের পাশে রয়েছি। এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।” অতীনবাবু বলেন, “কংগ্রেস ও CPI(M)-এর অশুভ জোটকে ২০১৬ সালে মানুষ পরিত্যাগ করেছে। তারা আবার জোট বেঁধেছে। তারা বাংলাকে রক্তাক্ত করতে চাইছে। আমদের দল নয়নের পরিবারের পাশে রয়েছে।”

এ প্রসঙ্গে মালদা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। মালদায় কংগ্রেস কখনও সন্ত্রাস করে ভোট চায়নি। চাইবেও না। কংগ্রেসের উপর এই ঘটনা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad