প্রেমঃ ৬০ এর বউ,২৬ এর বর! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 24 June 2018

প্রেমঃ ৬০ এর বউ,২৬ এর বর!


প্রেম মানে না কোনো বাধা তা আরো একবার প্রমাণ হলো। তাই তো ভালোবেসে নিজের ঘর ছেড়েছেন, দেশ ছেড়েছেন ডায়ানা ডি জয়সা (৬০)। তিনি পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর শ্রীলঙ্কায়। আর সেখানে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী হোটেলবয় প্রিয়ঞ্জনাকে বিয়ে করেছেন ডি জয়সা।
ডায়ানা ডি জয়সা ও প্রিয়ঞ্জনা জুটির প্রেমের শুরুটা হয় এক ছুটির দিনে। সেই দিনই তাদের জানাশোনা হয়। তারপর তা প্রেমে গড়ায়। তাদের মধ্যে এমন অসম প্রেম গড়ে উঠলেও সব কিছু চলছিল ঠিকঠাক।
কিন্তু গত বছর তাতে ছন্দপতন ঘটে। ওই সময় তার স্বামী প্রিয়ঞ্জনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই থেকে পাহাড়সম ঋণে আটকা পড়ে আছেন ডায়ানা। তার কাছে এখন শ্রীলঙ্কার জীবন এখন বন্দিশিবিরের মতো। ওই ঋণ তিনি শোধও করতে পারছেন না। নিজের দেশ বৃটেনের এডিনবার্গে ফিরেও যেতে পারছেন না। এ কারণে তার কাছে মনে হচ্ছে তিনি শ্রীলঙ্কায় আটকা পড়েছেন। তিনি এমনটাও ধারণা করছেন সেখানেই তাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেছেন, স্বামী প্রিয়ঞ্জনা ডি জয়সাকে সব মিলিয়ে এক লাখ পাউন্ডের মতো দিয়েছেন গত বছর সে মারা যাওয়ার আগে। ডায়ানার বিশ্বাস ওই অর্থের খবর পেয়ে কুচক্রীমহল তার কাছে ঘুষ বা উৎকোচ দাবি করেছিল। তা না পেয়ে তারা হত্যা করেছে তার স্বামীকে। এখন তার হাতে বৃটেনে ফিরে যাওয়ার মতো অর্থ নেই। অথচ শ্রীলঙ্কায় এসে হোটেল কাজ করা তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে তিনি স্কটল্যান্ডের রাজধানীতে নিজের বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন।


শ্রীলঙ্কা থেকে ডায়ানা ডেইলি রেকর্ডকে বলেছেন, আমি শ্রীলঙ্কায় আটকা পড়েছি। এখানেই আমাকে মরতে হবে। শ্রীলঙ্কা ছাড়তে হলে আমাকে দেশে বাদবাকি যা আছে তা বিক্রি করতে হবে। তারপর আমি বিমানের টিকিট কেটে ফিরতে পারব নিজ দেশে। হয়তো সেখানে গিয়ে একটি ফ্লাট নিয়ে নিতেও পারব। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় গত এক বছরে তেমন পরিবর্তন দেখিনি। শুধু আমিই প্রচুর পরিমাণে ঋণে ডুবে গিয়েছি।
ডায়ানা ডি জয়সা বলেছেন, তিনি যে বাড়িটি কিনতে ৬০ হাজার পাউন্ড দিয়েছিলেন তা এখন বিক্রি করে দিতে চান। কিন্তু এতে বাকি আত্মীয়-স্বজন তাকে প্রত্যাখ্যান করছেন। এখানেই শেষ নয়। একটি মিনিবাস কিনতে নিজের স্বামীকে ৩১ হাজার পাউন্ড দিয়েছিলেন ডায়ানা, যাতে সে একজন চালক হয়ে উঠতে পারে।
ডায়ানা বলেন, প্রিয়ঞ্জনার এক বন্ধু আমাকে বলেছেন, তারা তাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিল। কারণ, প্রিয়ঞ্জনা অর্থশালী হয়ে উঠেছিল। সে একটি চমৎকার বাড়ি কিনেছিল। একটি মিনিবাস ও একটি টুক-টুক কিনেছিল। ওইসব বন্ধু তাকে ব্লাকমেইল করেছিল। তাই প্রিয়ঞ্জনা তাদের কিছু অর্থ দিয়েছিল। তারা তার কাছে আরো অর্থ দাবি করছিল। কিন্তু সে তাদেরকে বাড়তি অর্থ দেয়নি। এ জন্য তারা তাকে গুলি করে।
ডায়ানা ও প্রিয়ঞ্জনা প্রেমকাহিনী: ২০১১ সালের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কায় ছুটি কাটাতে এসেছিলেন ডায়ানা। সেখানে হোটেলের এক কর্মচারী তখন প্রিয়ঞ্জনা। সেখানেই তাদের সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিকতা। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের জুন মাসে ডায়ানা আবার প্রিয়ঞ্জনাকে দেখতে শ্রীলঙ্কায় আসেন। এবার পুরোপুরি প্রেমে বাঁধা পড়েন তিনি। আর সেই বাঁধন ছিঁড়তে পারেননি তিনি। এর শেষ পরিণতি ঘটে তাদের বিয়ের মধ্য দিয়ে। বিয়ের পর ডায়ানা ফিরে যান নিজ দেশে। ওই বছরের নভেম্বরে তিনি তার এই স্বামীকে দেখতে আবার ফিরে আসেন শ্রীলঙ্কায়। এ সময়েই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করা হয়।
২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়মিতভাবে নিজের দেশ স্কটল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় আসা-যাওয়া করতে থাকেন ডায়ানা। তিনি ছিলেন এডিনবার্গ কাউন্সিলের একজন ওয়ার্কার। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এডিনবার্গে নিজের বাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে চলে আসেন শ্রীলঙ্কায়। প্রিয়ঞ্জনা শ্রীলঙ্কায় ভিন্ন একটি শহরে কাজ পাওয়ায় ওই বছরের জুন মাসে তিনি অল্প সময়ের জন্য ফিরে যান নিজের দেশ স্কটল্যান্ডে। তিনি সেপ্টেম্বরে আবার ফিরে আসেন। কারণ, তিনি স্বামী প্রিয়ঞ্জনা থেকে আলাদা থাকতে চাননি কোনো সময়।


কিন্তু, ২০১৭ সালের মে মাসে প্রিয়ঞ্জনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয় একদল মানুষ তার কাছে উৎকোচ দাবি করছিল। তা না পেয়ে তারা তাকে গুলি করে।
আর এ বছরের জুনে ডায়ানা বললেন, তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে পারছেন না। কারণ, তিনি অনেক ঋণে ডুবে আছেন।
তিনি আরো বলেছেন, জমানো অর্থ খরচ করে নিজেকে এবং প্রয়াত স্বামীর পরিবারকে চালিয়ে নিচ্ছেন। তার নিজেরও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad