পৌরসভার জমিতে নির্মাণকাজ করছিল একটি পরিবার। গালিগালাজ দিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন রিষড়া পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল টাউন প্রেসিডেন্ট হর্ষ বন্দ্যোপাধ্যয়। এমনকী, ওই ব্যক্তিকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। অভিযোগকারী ব্রতী বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রিষড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
রিষড়া পৌরসভা এলাকার ৩৬ নম্বর এন সি পাকরাশি লেনে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন ব্রতীবাবু। প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁর পরিবার সেখানে রয়েছে। ওই বাড়িটির মালিক পৌরসভা। বাড়িটির কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামত এবং একটি গ্যারেজ তৈরি করা শুরু করেন ব্রতী। অভিযোগ, চলতি মাসের ১০ তারিখ তাঁর বাড়িতে আসেন হর্ষবাবু। এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন। শুরু করেন গালিগালাজ। হুমকি দেন কাজ বন্ধ না করলে খুন করে মাটির নিচে পুঁতে দেবেন। সেই হুমকি রেকর্ড করেন ব্রতীবাবু। গতকাল অভিযুক্ত হর্ষবাবুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্রতীবাবু।
অভিযোগ দায়েরের পর যোগাযোগ করা হয়েছিল হর্ষবাবুর সঙ্গে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এবিষয়ে দলের জেলার দায়িত্বে থাকা নেতা প্রবীর ঘোষাল জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে দোষী প্রমাণিত হলে হর্ষবাবুর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হর্ষবাবু জানান, ব্রতী ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে থাকছিলেন ওই বাড়িতে। এমনকী নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। পৌরসভার কর্মীরা তাঁদের গিয়ে বাধা দেয়। সেসময় ব্রতী ও তাঁর পরিজনরা পৌরকর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন।
কিন্তু এপ্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে। পৌরসভার জমিতে কেন নির্মাণকাজ শুরু করলেন ব্রতীবাবু ? প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে ওই জমি ও বাড়িটি রিষড়া পৌরসভা অধিগ্রহণ করলেও তা তিনি জানতেন না।
দ্বিতীয়ত, ওই সম্পত্তিটি পৌরসভার তা জানিয়ে পোস্টার দেওয়া রয়েছে বাড়ির দেওয়ালে। তাহলে কেন জানতে পারলেন না ব্রতীবাবু ? এবিষয়ে তাঁর জবাব, হর্ষবাবু হুমকি দেওয়ার পর ওই পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, ঘটনাটি ১০ তারিখ হলেও গতকাল কেন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হল? এবিষয়ে ব্রতীবাবু কিছু বলতে চাননি।
এদিকে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার ব্রতীবাবুর সঙ্গে কথা বলবে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি।

No comments:
Post a Comment