ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 18 June 2018

ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ!


সোমবার ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈয়ে মৃত্যুদিন। তাঁর নাম মনিকর্নিকা, ডাকনাম মনু। ১৮২৭ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি মহারাষ্ট্রের মারাঠার ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪২ সালে ঝাঁসির মহারাজা গঙ্গাধর রাও নিওয়াকরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এভাবেই তিনি ঝাঁসির রানি হিসেবে পরিচিতি পান। বিয়ের পর তাঁর নতুন নাম হয় লক্ষ্মী বাঈ। ১৬০ বছর আগে আজকের তারিখে এক যুদ্ধে নিহত হন তিনি।
রানি লক্ষ্মী বাঈয়ের কাহিনি নিয়ে বলিউডে ছবি তৈরি হচ্ছে। ছবির নাম ‘মনিকর্নিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’। ছবির নাম এই চরিত্রে অভিনয় করছেন বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। রানি লক্ষ্মী বাঈয়ের মৃত্যুদিন উপলক্ষে আজ সোমবার সকালে এই ছবিতে নিজের ফার্স্ট লুক প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা রনৌত। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এই লুক প্রকাশ করে কঙ্গনা রনৌত লিখেছেন, ভারতের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বীর নারীকে শ্রদ্ধা।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১০ মে ১৮৫৭ সাল। মিরাটে বিদ্রোহের সূচনা হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, লি এনফিল্ড রাইফেলের আচ্ছাদনে শূকরের মাংস আর গরুর চর্বি ব্যবহার করা হয়। এরপরও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী রাইফেলে শূকরের মাংস ও গরুর চর্বির ব্যবহার অব্যাহত রাখে। তারা বিবৃতি দেয়, যারা এই রাইফেল ব্যবহারে অসম্মতি জানাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এই বিদ্রোহে সিপাহিরা অনেক ব্রিটিশ সেনাসহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের হত্যা করেন।
সমগ্র ভারতবর্ষে গণ-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ্মী বাঈ ঝাঁসির নেতৃত্বে ঝাঁসিতে শান্ত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় ছিল। ব্রিটিশ সৈন্যরা স্যার হিউজ রোজের নেতৃত্বে ঘাঁটি গেড়ে বসে এবং ২৩ মার্চ ১৮৫৮ তারিখে ঝাঁসি অবরোধ করে। লক্ষ্মী বাঈ তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেন। ঝাঁসি আর লক্ষ্মী বাঈকে মুক্ত করতে ২০ হাজার সৈন্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেন অন্যতম বিদ্রোহী নেতা তাতিয়া তোপে। ব্রিটিশ সৈন্য দলে সৈনিকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৫৪০ জন। এরপরও তাতিয়া তোপে ব্রিটিশ সৈন্যদের অবরোধ ভাঙতে পারেননি। কারণ ব্রিটিশ সৈনিকেরা ছিল প্রশিক্ষিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। রানি লক্ষ্মী বাঈয়ের বাহিনী এ আক্রমণ সহ্য করতে পারেনি। আক্রমণের তিন দিন পর ব্রিটিশ সৈন্যরা দুর্গের দেয়ালে ফাটল ধরায় এবং ঝাঁসি শহরে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এর আগেই এক রাতে দুর্গের দেয়াল থেকে সন্তানসহ লাফ দিয়ে লক্ষ্মী বাঈ প্রাণ রক্ষা করেন ও পালিয়ে যান।
রানি কাল্পিতে যান। সেখানে তিনি অন্য বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। এরপর রানি লক্ষ্মী বাঈ এবং তাতিয়া তোপে গোয়ালিয়রের দিকে রওনা দেন। সেখানে তাদের যৌথ বাহিনী গোয়ালিয়রের মহারাজার দলকে পরাজিত করে। পরাজিত বাহিনীর সদস্যরা পরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়। কৌশলগত অবস্থানে থাকা গোয়ালিয়রের কেল্লা দখল করে লক্ষ্মী বাঈ আর তোপের সম্মিলিত বাহিনী। ১৭ জুন ১৮৫৮ সালে ফুল বাগ এলাকার কাছাকাছি কোটাহ-কি সেরাইয়ে রাজকীয় বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হন রানি লক্ষ্মী বাঈ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad