কলকাতা, ২ জুন : প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে কাল থেকেই। বলছে আবহাওয়া দপ্তর। আর এতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের। কারণ, চোখের সামনে ভেসে উঠছে গতবারের বর্ষার স্মৃতি। আশঙ্কায় রয়েছে রাজ্যের সেচ দপ্তরও। এরই মাঝে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।
গত বছরের বন্যার স্মৃতি এখনও টাটকা। হুগলি থেকে শুরু করে বর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বানভাসি হয়েছিল দামোদর, কাঁসাই, মুণ্ডেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, অজয়ের জলে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল। ভেসে গিয়েছিল বহু চাষের জমি।
সেই সময় রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলেছিল, DVC-র ছাড়া জলে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসি হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে সব পড়শি রাজ্যের বৃষ্টির জল বয়ে যায়। তার উপর আবার ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট ব্যারাজ থেকে জল ছাড়া হয়। DVC-র ছাড়া জলে ভেসে যায় বাংলা। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার জল ছাড়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের কড়া নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে রাজ্য সেচ দপ্তর।
সম্প্রতি পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদ রাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। বৈঠকে রাজ্যের সেচমন্ত্রী দাবি তোলেন, বাংলাকে বাঁচাতে সমন্বয়-ভিত্তিক যৌথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে জল ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা হোক। অভিযোগ, সেই দাবি মানা হয়েছে কি না এখনও জানে না রাজ্য। এছাড়াও, জলাধার থেকে পলি তোলার ক্ষেত্রে উদাসীনতার অভিযোগ এনেছে রাজ্য।
তথ্য বলছে, ১৯৫৫ সালে তৈরি হওয়ার পর দুর্গাপুর ব্যারাজের জল ধারণের ক্ষমতা ছিল প্রায় সাড়ে ৬ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। তবে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের হিসেব, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেচ দপ্তরের অভিযোগ, পলি সংস্কার না হওয়াতেই এই অবস্থা। ফলে বেশি বৃষ্টি হলে জল থইথই হয়ে যায় দুর্গাপুর ব্যারাজ। আবার ঝাড়খণ্ডের জলাধারগুলি থেকে বেশি জল ছাড়লেই তা বের করে দিতে হয়। না হলে জলের চাপে ব্যারাজ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে ষোলোআনা। এই প্রসঙ্গে রাজীববাবু বলেন, “আমরা বারবার বলেছি। তার পরও পলি তোলার কাজ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।"
অভিযোগ, বিশ্ব ব্যাঙ্কের তহবিল থেকে DVC-কে ১১৫ কোটি দেওয়া হয়েছে। এই কাজে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। বাকি টাকা কেন খরচ করা হল না, সেই প্রশ্ন তুলেছে সেচ দপ্তর। পাশাপাশি অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের এক টাকাও কেন্দ্র দেয়নি। আবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে বকেয়া রয়েছে ২৩০ কোটি টাকা। এই নিয়ে ফের কেন্দ্রের কাছে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন সেচমন্ত্রী।
রাজীববাবুর বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় সরকারের দুটো দপ্তর। ওরা কী করেছে ওরাই বলতে পারবে। আমরা কিছুই জানতে পারছি না।”
এদিকে দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, এবারও ভালো বর্ষা হবে দেশে। রাজীববাবু বলেন, “সমস্যা হবে। আমরা আমাদের মতো যতটুকু করার করছি। কেন্দ্রীয় সরকার উদাসীন। আগের দিনই বলেছি। আমি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলাম

No comments:
Post a Comment