পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটটির দক্ষিণ দিকের ছোট বারান্দা গ্রিল দিয়ে ঘেরা। গ্রিলের একটা অংশ জামাকাপড় শুকানোর জন্য খোলা যায়। আর খেলতে গিয়ে ওই জানালা থেকে পড়ে যায় আড়াই বছরের শিশুটি। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে সে।
ভারতের কলকাতার এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেটের মতিলাল কলোনির একটি আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার কথা মনে করলে এখনো আঁতকে উঠেন শিশুটির বাবা-মা সঙ্গম আর সঙ্গীতা গুপ্ত। জামশেদপুরের বাসিন্দা গুপ্ত পরিবার এই ফ্ল্যাটে এসেছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। গত ২১ জুন সকাল ১১টা দিকে ফ্ল্যাটে খেলছিল মেয়ে গুনগুন। সঙ্গম আর সঙ্গীতাও ছিলেন।
সঙ্গম বলেন, ‘ফ্ল্যাটের দক্ষিণ দিকের ছোট বারান্দাটা গ্রিল দিয়ে ঘেরা। গ্রিলের একটা অংশ জামাকাপড় শুকোনোর জন্য খোলা যায়। সে দিন ওই অংশটা যে খোলা রয়েছে, তা আমরা খেয়াল করিনি। বারান্দার বেসিনে মুখ ধুচ্ছিলাম। কোন ফাঁকে গুনগুন নিঃশব্দে এসে গ্রিল বেয়ে উঠে ওই খোলা অংশে পৌঁছে যায়।’
তিনি বলেন, ‘হাত বাড়িয়ে ধরার আগেই চোখের সামনে আমার মেয়ে গ্রিলের ওই খোলা জায়গাটা দিয়ে পড়ে যায়। আমার চোখের সামনে সব কেমন ধূসর হয়ে যাচ্ছিল। কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম না।’
সঙ্গমের আর্তনাদ শুনে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোক ছুটে আসেন। গুনগুন ততক্ষণে আছড়ে পড়েছে নীচের পাঁচিলের ওপর। সেখান থেকে মাটিতে।
নীচে বসেছিলেন নিরাপত্তাকর্মী শঙ্কর ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ধুপ করে ভারী কোনো জিনিস পড়ার আওয়াজ পেলাম। ওপর থেকে চিৎকারও শুনলাম। তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখি, বাচ্চাটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। কোলে তুলে উঠিয়ে আনলাম। ও বেঁচে ফিরেছে এখনো ভাবতে পারছি না।’
চিকিৎসকরা বলেন, পাঁচতলা থেকে নীচে পড়ে এক বোতল রক্তও লাগল না, মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে আহত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি চলে গেছে- এমন ঘটনা বিরল।
তারা জানান, পাঁচতলার ওপর থেকে গুনগুন পড়েছিল একটি পাঁচিলের ওপরে। উপুড় হয়ে পড়ায় মাথায় তেমন আঘাত লাগেনি। আর পাঁচিল থকে নীচে পড়ার সময় চিৎ হয়ে পড়েছিল মেয়েটি। কিন্তু তার মাথা বাঁচিয়ে দিয়েছে আবাসনের নীচে ছড়িয়ে থাকা কিছু থার্মোকলের প্যাকেট।
এতো উঁচু থেকে উপুড় হয়ে পড়াতেও কিভাবে প্রায় অক্ষত থাকল গুনগুন? তার চিকিৎসক বৈশালী শ্রীবাস্তব ও ইনটেনসিভ কেয়ার চিকিৎসক অভিষেক পোদ্দার জানান, শিশুটির ফুসফুস, প্লীহা, অন্ত্রে ধাক্কা লেগে শরীরের ভেতরে জায়গায় জায়গায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। কাঁধের হাড়, শিরদাঁড়ার একটি হাড় ভেঙেছে। কিন্তু কোনো আঘাতই খুব গুরুতর নয়।
ফিজিক্যাল মেডিসিন চিকিৎসক রাজেশ প্রামাণিক, মৌলিমাধব ঘটকদের মতে, বাচ্চাদের শরীরে হাড় নরম, আঘাত প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্থিতিস্থাপকতা বেশি। ফলে তাদের চোট লাগার আশঙ্কা কম থাকে। তবে পাঁচতলা থেকে পড়ে এমনভাবে বেঁচে যাওয়াও বিরল।
ছোট্ট গুনগুন এখন বাড়ি ফিরে দিব্যি গান গাইছে, ছড়া আওড়াচ্ছে। আর তাকে দেখতে আসা লোকজনকে হাত তুলে আশ্বাসের ভঙ্গিতে আধো গলার বলছে- ‘সব থিক আছে।’

No comments:
Post a Comment