বেআইনি কাজকর্ম সহ একাধিক অভিযোগ তুলে ডানকুনি
পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনমের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল তার দলের কাউনসিলররা। সোমবার শ্রীরামপুরের
এসডিও দফতরে পুরসভার ৮জন কাউন্সিলর মিলিত ভাবে স্বাক্ষর করে অনাস্থার প্রস্তাব জমা দেন। সেই চিঠিতে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি অনাস্থার দিনক্ষন ঠিক করার দাবী করেন। প্রশাসন
সূত্রে জানা গিয়েছে,
ডানকুনি পুরসভার ৮জন কাউন্সিলর
চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। তার মধ্যে তৃণমূলের ৬জন ও সিপিএমের ২ কাউন্সিলর
স্বাক্ষর করেছেন বলে খবর। নজিরবিহীন
ভাবে সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূল দলীয় চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনায় জেলাজুরে
শাসক দলের অন্দরে ব্যপক শোরগোল ছড়িয়ে
পড়েছে। এদিন
শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসক তনয়দেব সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডানকুনি
পুরসভার একটি অনাস্থা
জমা দিয়েছে। আমরা খতিয়ে
দেখে ব্যবস্থা নেব।
তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ
কাউন্সিলররা অভিযোগ করে বলেন, কখনো গরীব
মানুষের আবাস যোজনার টাকা, কখনো আবার কর্মী নিয়োগে নিজের আত্মীয়কে নিয়োগ, কখনো আবার
পুরসভার বিদ্যুতের বিল জমা নিয়ে আর্থিক অনিয়ম। সব ক্ষেত্রেই
নাম জড়িয়েছে চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনমের। জেলা থেকে রাজ্য নেতৃত্ব দলের সব নেতাকে
বারংবার চেয়ারপার্সনের আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রমান সহ তুলে দেওয়া হলেও
দলের কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু আমরা কাউন্সিলারেরা সাধারন মানুষের কাছে অপমানিত
হচ্ছিলাম। আমরা দলকে
ভালোবাসি। কিন্তু কারো
কলঙ্কের দায় আমরা আমারা নিতে নারাজ। সেই কারনেই
আমরা চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছি। অনাস্থা
প্রাস্তাবের আবেদনে প্রথমেই স্বাক্ষর করেছেন পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল
কাউন্সিলর ইউনিস আলী নস্কর। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডানকুনি পুরসভা গঠনের
আগে যখন পঞ্চায়েত ছিল তখন থেকে আমি পঞ্চায়েত সদস্য ছিলাম। পুরসভা গঠনের
পর জনগনের ভোটে আমি কাউন্সিলর হয়েছি। কিন্তু চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম একের পর
দুর্নিতী স্বজনপোষন করেই চলেছেন। আমরা সারা বছর দল করি। ঘন ঘন
দুর্নিতীর অভিযোগ ওঠায় দলের নীচু তলার কর্মী ও সাধারন মানুষের কাছে জবাব দিতে দিতে
আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। দলকে জানিয়ে কোন কাজ হয়নি। আমরা কারো
অন্যায়ের দায়ভার নেবনা। কেউ দুর্নিতী করলে তার সঙ্গে আপোষ করব না। পুরসভার ১৬
নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর প্রীতী গুপ্তা বলেন, পুরসভার
রন্ধে রন্ধে দুর্নিতী। আমি মানুষের ভোটে নির্বাচিত। ডানকুনিতেই
আমার জন্ম এবং কর্ম। এর আগের
বোর্ডেও তার বিরুদ্ধে দুর্নিতীর অভিযোগ ওঠে। চেয়ারপার্সন
তার নিজের আত্মীয়ের চাকরির বন্দোবস্ত করতে গিয়ে পঞ্চাশ জন বেকার যুবকের চাকরি অনিশ্চিত
করে দিয়েছেন। আমরা তাই
জোটবদ্ধ হয়েই অনাস্থা এনেছি। যদিও এদিন ফোন ধরেন নি ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন
হাসিনা শবনম। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গোটা পরিস্থিতি
সামাল দিতে হুগলি জেলার পর্যবেক্ষক
অরুপ বিশ্বাস দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে ডানকুনিতে বৈঠক করবেন।

No comments:
Post a Comment