শৌচাগারে মৃত সন্তান প্রসব করার অভিযোগে চরম সাজা পেলেন এক তরুণীকে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য আমেরিকার এল সালভাদরে। জানা গিয়েছে, বিশ্বের যেসব দেশে কোনও পরিস্থিতিতেই গর্ভপাত অবৈধ, এর মধ্যে এল সালভাদর অন্যতম। গত ২০ বছর ধরে সেখানকার আইন অনুযায়ী গর্ভপাত অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সরাসরি গর্ভপাতের রাস্তায় না গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতাই কোনওভাবে শিশুটিকে হত্যা করেন ওই তরুণী।
এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইভলিন বিয়াত্রিজ হার্নান্দেজ ক্রুজ নামে ১৯ বছরের ওই তরুণী বেশ কয়েকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার ফলেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। গত বছরের মাঝামাঝি পেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে হার্নান্দেজ-এর মা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই শৌচালয়ে তিনি সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর শিশুটি চিকিৎসকদের হাতে পৌঁছনোর আগেই মারা যায়। তবে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেননি গর্ভেই ভ্রূণের মৃত্যু হয়েছিল, না প্রসবের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ফলত সন্দেহের বশে তরুণীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন তাঁরা। সেখানেই গ্রেফতার করা হয় হার্নান্দেজকে।
এক বছর ধরে এই ঘটনারই মামলা চলছিল। এতদিনে তার রায় ঘোষণা হল। শিশুহত্যার দায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে হার্নান্দেজকে। আদালতে হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। কারণ, এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁর আগে ছিল না। হঠাৎ করেই পেটে তীব্র ব্যথা ও রক্ত ক্ষরণ শুরু হয় তাঁর। তারপরই মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। কিন্তু আদালত তাঁর কথা বিশ্বাস করেনি। অবশ্য এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

No comments:
Post a Comment