অর্ক রায়, মালদা : নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মালদা তথা ভারতের ইতিহাসের সৌধ রক্ষাকারী শ্রমিকরা আজ বিপন্ন ।
প্রশাসন গাফিলতি এবং সরকারি উদাসীনতায় কর্মহীন ৫৪ জন শ্রমিক পরিবারসহ আজ রাস্তায়।
এক সময় বাংলার রাজধানী গৌড়ে, ইতিহাসের সাক্ষী বহনকারী ১৬ টি সৌধের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন ৫৪ অস্থায়ী শ্রমিক ।এদের কেও কাজ করছেন ১০ বছর কেউবা ৩০, অনেকে আবার এর চাইতেও বেশি সময় ধরে এই সমস্ত সৌধ গুলিতে কাজ করছেন।দীর্ঘদিন ধরে এদের স্থায়ীকরণের দাবি উপেক্ষিত, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণে, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ইতিহাস রক্ষাকারী এই পরিবারগুলি আজ রাস্তায়। আদালতের নির্দেশ সত্বেও কর্মহীন এরা। ফলে কার্যত বাধ্য হয়েই সৌধের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ অবরোধে শামিল সপরিবারে। নিজেদের জীবন বিপন্ন হলেও এদের অবরোধের জেরে যাতে কোন পর্যটক এর অসুবিধা না হয় সেই দিকটিও বিশেষভাবে নজর রাখছেন আন্দোলনকারীরা।
মালদার ঐতিহাসিক গৌড়ের সৌধ গুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী কর্মী রয়েছেন মাত্র দুজন, ১৬ টি ঐতিহাসিক সৌধ রক্ষণাবেক্ষণ করা এই দুইজন কর্মীর পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সীমান্ত সংলগ্ন এই সৌধ গুলিকে এতদিন দুষ্কৃতী সহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন এই সৌধ কাজে নিযুক্ত ৫৪ জন শ্রমিক ।যাদের দৈনিক বেতন বর্তমানে ৩৭০টাকা। মাসে যে কদিন তারা কাজ পান এই হারেই তাদের মজুরি দেওয়া হয়। ফলে এই সামান্য টাকায় বর্তমানে তাদের সংসার চালানোই দায় হয়ে উঠেছিল ।ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই শ্রমিকরা স্থায়ীকরণের দাবি করছিলেন ,বিভিন্ন সময় আলাপ-আলোচনা লিখিত প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও অদ্যাবধি এই সমস্ত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করা হয়নি । উপরন্তু কর্মীদের ঠিকাদারের অধীনে করে দেওয়ার একটি চক্রান্তের অভিযোগ পাচ্ছিলেন এই শ্রমিকরা বলে জানিয়েছেন ।তাই বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার জন্য এবং আগামীতে স্থায়ীকরণের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোন উদ্যোগ দেখতে না, পেয়ে তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ৩ মাস আগে। এরপর মহামান্য আদালত দুই পক্ষের কথা শোনার শুনে বর্তমান অবস্থার ওপর স্থগিতাদেশ দেন অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই এই সমস্ত শ্রমিকদের কাজ ছাড়ানো যাবে না বা ঠিকাদারের অধীনেও এদের করা যাবে না , এমনটাই হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এই শ্রমিকদের অভিযোগ হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্বেও সেই নির্দেশ অমান্য করে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে এই সমস্ত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, চক্রান্ত হচ্ছে ঠিকাদারের অধীনে এই শ্রমিকদের নিয়ে আসার। শ্রমিকরা কোন অবস্থাতেই এই ব্যবস্থা মানবেন না বলে জানিয়েছেন।
ফলে আজ থেকেই সৌধ গুলির সামনে শুরু হয়েছে এই সমস্ত অস্থায়ী শ্রমিকদের অবস্থান বিক্ষোভ সঙ্গে পথ অবরোধ ।যদিও এই সমস্ত আন্দোলন হচ্ছে সৌধের কোন ধরনের ক্ষতি সাধন না করে বা পর্যটকদের কোন অসুবিধা সৃষ্টি না করে, শ্রমিকদের বক্তব্য কেউ কুড়ি কেউ ৩০ বা তারও বেশী সময় ধরেই কেউ বা এই শব্দগুলিকে নিজেদের শিশুর মত কেউ বা পিতার মতো আগলে রেখেছেন তাই কোনো অবস্থাতেই এই সৌধের ক্ষতি বা এই সৌধ দেখতে আসা পর্যটকদের কোন অসুবিধা হোক তারা চান না। কিন্তু পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার ফলে তাদের পরিবার আজকে যে রাস্তায় বসতে বাধ্য হয়েছে, একথাও তারা সামনে আনতে চান তাই এই আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা তাদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন এই সৌধ গুলি দেখতে আসা পর্যটকদের কাছেও।
ঐতিহাসিক গৌড়ের সৌধ রক্ষাকারী এই সমস্ত শ্রমিকদের আন্দোলনের পাশে স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়াচ্ছেন পর্যটকরাও তাদেরও বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে এরা যখন নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ইতিহাস রক্ষা করে চলেছেন সরকারের উচিত এদের এবং এদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস থেকে এদের মুক্তি ঘটুক এমনটাই আশা সকলের এখন এটাই দেখার অপেক্ষা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই আন্দোলন করার পর কাজ হারিয়ে রাস্তায় বসা ইতিহাস এর ইতিহাস রক্ষার এই কারিগরদের বিক্ষোভের মূল বক্তব্য সরকারের কাছে পৌঁছে কিনা? এদের এই আন্দোলন সত্যিই কি আগামী দিনে পথে বসা এই পরিবারগুলোর ভাগ্য ফেরাতে পারবে? না কি ইতিহাসের প্রাচীন সৌধের মতো ধীরে ধীরে এই সমস্ত শ্রমিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা মিলিয়ে যাবে সময়ের সাথে সাথে। এখন এই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে ঐতিহাসিক গৌড়ের আকাশে বাতাসে।




No comments:
Post a Comment