মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দক্ষিন ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার প্রসাদ পুরগ্রামে ।মৃতার নাম মায়া দাস।বয়স ২৩ বছর।
মৃতার মায়ের দাবী, দীর্ঘ ৫ বছর আগে বিষ্ণুপুর থানার জুলপিয়া আন্ধারমানিক বাসিন্দা মায়া মণ্ডলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার প্রসাদপুর গ্রামের সুখেন দাসের সঙ্গে বিবাহ হয়। তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে ,সুখে শান্তিতে সংসার চলছিল হঠাৎই নেমে আসে অকাল পরিণাম কারণ মায়া দাসের স্বামীর সুখেন দাস পেটের রোগে ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে ছিলেন সুফল কিছু হয়নি সেই জন্য স্বামীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তান্ত্রিকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে ।ঠাকুরপুকুর থানার সবুজ পার্কের বাসিন্দা বিজয় বাগ ওরফে নাড়ু কাছে ,তান্ত্রিক বিজয় বলেন যে পেটের রোগ সেরে যাবে লাগবে ৪০ হাজার টাকা লাগবে মায়া দাস রাজি ও হয় যথারীতি ২০ হাজার টাকা দেয় আর বাকি ছিল ২০ হাজার টাকা ।সেই নিয়ে প্রতিনিয়ত ফোন করে চাপ দিতে থাকে এবং বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে ।মায়া দাসের মা ছায়া মণ্ডল আরও বলেন,এই তান্ত্রিকের চাপে পড়ে গলাই দড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় । "আমার মেয়ের জামাই ও এখানে নেই কর্ম সূত্রে দুবাইয়ে গিয়েছে ১ মাস আগে মেয়ে তান্ত্রিক বিজয় বাগকে জানিয়ে ছিল স্বামী টাকা পাঠালে দিয়ে দেবে কিন্তু তান্ত্রিক সহ্য করতে পারলো না হুমকি আর চাপে পরে আত্মঘাতী হয়েছে ।
মৃতার মা ছায়া মণ্ডল আরও বলেন যে, আমার মেয়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে থেকে টাকা নিয়ে জামাই কে বিদেশে পাঠিয়েছে, টাকা প্রতি সপ্তাহে দিতে আসতো মেয়ে আমার কাছে থাকতো টাকা দেওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়িতে আসতো রীতিমতো গতকাল ও এসে ছিল কিন্তু আমার কাছে আর আসেনি শশুর বাড়িতে ছিল , ১২- ১:৩০ সময় আমার মেয়েকে তার শ্বশুর খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে গিয়ে দেখে যে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ বহু ডাকাডাকির পর সারা না পেয়ে অন্য একটি জানালা দিয়ে দেখেন যে গলাই দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন আমাদের খবর দিলে এসে দেখি আমার মেয়ের নিথর দেহ । তারপর বিষ্ণুপুর থানাই খবর দেওয়া হয় । খবরপেয়ে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ গিয়ে মায়া দাসের মৃত দেহ উদ্ধার করে আনে আমতলা গ্রামীন হাসপাতালে।শুক্রবার এখন ময়নাতদন্তের জন্য মমিন পুর ( কাঁটা পুকুরে ) নিয়ে গিয়েছে পুলিশ সহ পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্তের পর বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ মৃতদেহ পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেবে । পরিবারের লোকজন বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

No comments:
Post a Comment