ঠগ বাছতে গাঁ উজার হওয়ার জোগার! টাকার বিনিময়ে কলেজে ভরতি চক্রের বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুলিশ সোশাল মিডিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোন নম্বর দিয়ে অভিযোগ জানানোর ঘোষণা করেছিল। তারপরেই পুলিশের কাছে আসছে একের পর এক অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত রাতে কলকাতার ১৭টি জায়গায় হানা দেয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জয়পুরিয়া কলেজের এক ছাত্রনেতাকে। এছাড়া সুরেন্দ্রনাথ কলেজর এক গ্রুপ D স্টাফের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর কাগজপত্র।
‘কীর্তিমান’রা আপাতত গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই অভিযুক্তদের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে বহু জায়গাতেই। রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ জালে তুলতে পেরেছে শুধু তিতান সাহা নামে এক অভিযুক্তকে। সে জয়পুরিয়া কলেজের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে উত্তর কলকাতা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অন্যতম নেতা। পুলিশ সূত্রে খবর, সোশাল মিডিয়ায় লালবাজারের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগ আসে তিতানের বিরুদ্ধে। সেই সূত্র ধরেই শিশির ভাদুড়ি সরণির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিতানকে। বাকিরা গা ঢাকা দিলেও সে বাড়িতে ছিলেন। এছাড়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নীলমণি দত্ত লেনের রাতুল ঘোষের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর ভরতির ফর্ম, অ্যাডমিট কার্ড এবং ভরতি সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্র। রাতুল সুরেন্দ্রনাথ কলেজের গ্রুপ D কর্মী।
উত্তর কলকাতার শ্রীশচন্দ্র কলেজ, দক্ষিণ কলকাতার প্রফুল্লচন্দ্র কলেজের পর এবার জয়পুরিয়া। ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার ছাত্রকে। অভিযোগ, তারা সবাই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী।
বাঁশদ্রোণী এলাকার শিবপ্রিয় সেন দক্ষিণ কলকাতার প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে ভরতি হতে গিয়ে ‘দাদা’দের খপ্পরে পড়েন। অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে যাদবপুর এলাকার সায়ন মুখার্জি এবং জ়াকির আহমেদ ভরতির জন্য ২৫ হাজার টাকা নেয়। ভরতি প্রক্রিয়া সম্পন্নও হয়ে যায়। তিনি অ্যাকাউন্টেন্সি অনার্সে ভরতি হন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে পারেন, ভরতি হওয়ার জন্য এই ধরনের কোনও টাকার প্রয়োজন হয় না। শুধু ভর্তি ফিটুকুই লাগে। সেটা জানার পর সায়ন এবং জ়াকিরের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান শিবপ্রিয়। তারা তা দিতে রাজি হয়নি। উল্টে ধমকানো হয় বলে অভিযোগ। তারপরেই রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিবপ্রিয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগ ছিলই। অভিযোগের মুখ ছিল শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছিল, অনলাইনে ভরতির ব্যবস্থা করা হলেও তা স্রেফ লোক দেখানো।

No comments:
Post a Comment