মালদা : ওসির হাতে বেধড়ক মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন থানারই এক আধিকারিক। অভিযোগ, ওসির বেপরোয়া তোলাবাজির প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তাই কয়েক দিন ধরেই চলছিল অত্যাচার। বুধবার সকালে থানায় ঢুকতেই ওসির নেতৃত্বে লাঠি ও বেল্ট দিয়ে তাঁকে বেপরোয়া মারধর শুরু করে থানারই আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী। কোনও মতে তাঁদের কবল থেকে পালিয়ে বাঁচেন ওই আধিকারিক। এরপরেই রক্তাক্ত ওই আধিকারিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়েই ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপারকে অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত ওই এএসআই। তবে গোটা ঘটনাই তাঁদের কানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মালদহের এসপি অর্ণব ঘোষ।
মালদহের ভুতনি থানায় এএসআই পদে কর্মরত মহম্মদ নুরুল ইসলাম। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, থানার ওসি তরুণ সাহা ১৩ জুন মালা সিং নামে গোদায় চরের এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছে ২৩ হাজার টাকা ছিল। তাঁকে ছাড়ার জন্য ৫ লক্ষ টাকা চায় ওসি। কিন্তু মালা সিং টাকা দিতে না পারায় ২৩ হাজার টাকার জালনোটের মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসিয়ে দেন ওসি তরুণ সাহা। এলাকায় রাস্তার কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ওসি। রাজকুমার টোলার নদী বাঁধ মেরামতিতে নিযুক্ত ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়েছেন ১৪ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, “উত্তরচণ্ডীপুরে প্রধানের সঙ্গে মিলে বড়োবাবু ২২ টি গাছ কেটে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তৃণমূলের হয়ে কাজ করেন তিনি। প্রতিমাসে কম করে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ তোলাবাজি তুলছেন। প্রতিবাদ করায় প্রথমে পুলিশ আবাসনের মেসে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বুধবার প্রাণে মারার চেষ্টা করেন।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ভুতনি থানার ওসি তরুণ সাহা। তাঁর দাবি থানায় এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তরুণবাবুর পাল্টা অভিযোগ, ” অতীতে ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধেই নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একবার ডাকাতির মামলাতেও ধরা পড়েছিলেন। পুরোটাই ষড়যন্ত্র। ” তবে কী করে ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হওয়া একজন, থানায় আধিকারিকের দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি।
এ দিকে এএসআই মহম্মদ নুরুল ইসলাম তৃণমূলের সঙ্গে ওসির যোগসাজসের যে অভিযোগ এনেছেন তা উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, “ভুতনি থানার ওসি তরুণ সাহা অত্যন্ত ভালো একজন অফিসার। সমাজের মানুষকে নিয়ে কাজ করেন।”
তবে ওসি’র বিরুদ্ধে থানার এক পুলিশ আধিকারিকের আনা এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার পুলিশ মহলে। জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, “বিষয়টা আমরা পুরোটাই জানি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে।”

No comments:
Post a Comment