"দয়া নয়, DA রাজ্য সরকারি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার" - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 31 August 2018

"দয়া নয়, DA রাজ্য সরকারি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার"



DA রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনসঙ্গত অধিকার। এই ভাতা রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য। SAT(স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালকে)-র রায় খারিজ করে আজ DA মামলার রায়ে একথা জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মামলাটি ফের SAT-এ ফেরত পাঠিয়েছেন। আগামী ২ মাসের মধ্যে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে SAT-কে। এক, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যে হারে DA পান সেই হারেই রাজ্যের কর্মচারীদের DA দেওয়া হবে কি না। দুই, রাজ্যেরই কিছু কর্মচারী আছেন যাঁরা দিল্লির বঙ্গভবন ও চেন্নাইয়ের ইউথ হস্টেলে নিযুক্ত। তাঁরা রাজ্যের কর্মচারী হলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হারেই DA পান। তাই রাজ্যে নিযুক্ত কর্মচারীরাও ওনাদের মতোই DA পাবেন কি না ? আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এবিষয়ে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে হবে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগঠনের তরফে প্রথমে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল বা SAT-এ মামলা করা হয়। সেই মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যখন ১২৫ শতাংশ হারে DA দেয় তখন রাজ্য দেয় ৭৫ শতাংশ হারে। সেই সময় SAT বলেছিল DA হল সরকারের দয়ার দান। এই মর্মে হাইকোর্টে মামলা করেন স্বপনকুমার দে নামে রাজ্য অর্থদপ্তরের এক কর্মচারী। হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশিথা মাত্রে ও তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে ৬ বার শুনানির পর ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই মামলাটি লিস্টেড হয়। ওই দিন দুই বিচারপতি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনেরাল কিশোর দত্তকে কেন নির্দিষ্ট সময়ে DA দেওয়া হচ্ছে না তা তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেন। এরপর DA নিয়ে একাধিকবার রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতিরা। দিল্লি ও চেন্নাইতে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে এখানকার সরকারি কর্মীদের DA-র ফারাক নিয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি নিশিথা মাত্রে অবসর গ্রহণ করায় মামলাটি দেবাশিস করগুপ্ত এবং শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চে আসে। এরপর এই দুই বিচারপতির এজলাসে মামলাটি গতবছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি চলছিল। চলতি বছরের ২৪ জুলাই ছিল মামলার শুনানির শেষ হয়। ৩৮ বার শুনানির পর আজ অন্তিম শুনানি শেষে DA মামলার রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট।
আজ মামলার শেষ শুনানিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি প্রশ্ন তোলেন, "DA দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আচরণ খাপ পঞ্চায়েতের মতো কেন ? দিল্লি এবং চেন্নাইতে থাকা সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে DA পাচ্ছেন। অথচ এই রাজ্যে যারা রয়েছে তাঁরা বঞ্চিত। এটা তো সংবিধানের পরিপন্থী।" তিনি আরও জানান, West Bengal Ropa Rule-2009 (revision of payable allowance rule) আইনটি তৈরি হয়েছে সংবিধানের ৩০৯ ধারা মোতাবেক। তাই এই আইন অনুযায়ী সমস্ত Allowance সাংবিধানিক অধিকার।


জবাবে রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনেরাল কিশোর দত্ত ১৯৫৪ সালের সুপ্রিমকোর্টের একটি রায় তুলে ধরে বলেন, "DA is not a matter of right।" প্রত্যুত্তরে আইনজীবী আমজাদ আলি এবং ফিরদৌস শামিম বলেন, "ওই রায় ছিল কলোনিয়াল রুলের ভিত্তিতে। কিন্তু, স্বাধীনতার পর সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন বলে বিবেচিত হয়। ফলে কলোনিয়াল রুলের ভিত্তিতে দেওয়া রায়টি কি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য?" সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতিরা বলেন, DA সরকারি কর্মচারীদের আইনসঙ্গত অধিকার।

এই রায়কে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বর্ণনা করেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভরমেন্ট এমপ্লয়িজ়-র সভাপতি শ্যামল মিত্র বলেন, "SAT-র রায় দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তারা আমাদের কোনও কথা শোনেনি। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলাম। আজকের রায়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ঐতিহাসিক জয় হল। কারণ, মহামান্য হাইকোর্ট আজ রায়ে পরিষ্কার বলে দিয়েছে DA সরকারি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার।"

তাঁর অভিযোগ, "এতদিন খাপ পঞ্চায়েতের ঢঙে কখনও শিলিগুড়ি কখনও বাঁকুড়ায় DA ঘোষণা করা হচ্ছিল। এতে মনে হচ্ছিল যেন এটা দয়া। কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা শেষ করে দেওয়া হচ্ছিল। সেই রাস্তা আজ বন্ধ হল। এটা কারও দয়ার দান নয়। মহামান্য হাইকোর্ট আজ পরিষ্কারভাবে সেটা জানাল। রাজ্য সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে SAT-এ তাদের মতামত জানাতে। রাজ্য সরকার মতামত জানানোর এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদেরও জবাব দিতে হবে।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad