বার্সেলোনার জার্সিতে লিওনেল মেসির অভিষেক হয় ১৬ অক্টোবর ২০০৪ সালে। ক্ষুদে মেসির বয়স তখন ১৭ বছর ৩ মাস ২২ দিন। অভিষেকের সাত মাস পর ২০০৫ সালের ১ মে ক্লাবের জার্সিতে প্রথম গোল পান এই ক্ষুদে জাদুকর। ঘরের মাঠ নু-ক্যাম্পে আলবাকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম গোল করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা এই আর্জেন্টাইন ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় জুড়ে কাতালোনিয়ার দলটিকে দিয়েছেন মুঠোভরে। দিয়ে যাচ্ছেন এখনও। নিজেকে পরিণত করেছেন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ও বিশ্বের দামী খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন হিসেবে।
কখনো ভেবে দেখেছেন এই মেসিকে যদি বর্তমান অর্থমূল্য অনুসারে বিক্রি করা হয়, সেই টাকা দিয়ে বার্সেলোনা কি কি করতে পারবে? ধরুন আজকেই মেসিকে অন্য ক্লাবের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সেই বিশাল অর্থ দিয়ে বার্সেলোনা কি কি করতে পারবে আসুন দেখে নেই।
বার্সেলোনার এই মহাতারকার বর্তমান মূল্য ধরা হয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। কোনো ক্লাব যদি তাঁকে কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে বার্সার বেঁধে দেওয়া রিলিজ ক্লজ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করতেই হবে বার্সাকে। যা বাংলাদেশে টাকায় সাত হাজার কোটি টাকা!
এই বিশাল অংকের টাকা দিয়ে বার্সেলোনা বিশ্বের বড় ২০ ক্লাবের ৯টির মধ্য থেকে যেকোনো একটি ক্লাবকে সম্পূর্ণ কিনে নিতে পারবে। এই ক্লাবগুলোর মধ্যে আছে ইতালির রোমা, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও নাপোলি। এছাড়া শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলগুলোর মধ্য থেকে একটি দলকে এক বছরের আয়ের সমপরিমান অর্থ পুরোটাই দিয়ে দিতে পারবে বার্সেলোনা। অবাক করা বিষয় বার্সেলোনার এক বছরের আয় মেসির দামের প্রায় সমান।
এছাড়া আমেরিকায় বহুল প্রচলিত মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ খেলোয়াড় কিনে নিতে পারবে বার্সা। একই সঙ্গে স্প্যানিশ লা-লিগার প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় কিনে নিতে পারবে বার্সেলোনা।
শুধু তাই নয়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় স্টেডিয়াম আর্সেনালের এমিরেটস পুরোটাই কিনে নিতে পারবে। স্টেডিয়াম কিনে নেওয়ার পরও সেখানে ১০ মিলিয়ন অর্থ বেঁচে যাবে বার্সেলোনার। সবচেয়ে মজার ব্যাপার বার্সেলোনার সব খেলোয়াড়ের দাম একত্রে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ইউরো। সেখানে মেসির দাম একাই ৭০০ মিলিয়ন ইউরো।
মেসির ট্রান্সফার ফি দিয়ে প্রায় ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৭০০ যাত্রীবাহী বিমান কেনা সম্ভব। কেনা যেত এয়ারবাস এসিজেড দুটি ৩১৯ জেট বিমান। শুধু তাই নয়, আমেরিকান এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপের দু’তিনটি দল কেনা যেতে পারে এই অর্থ দিয়ে। গোল্ডেন এস্টেট ওয়ারিয়র্সের মতো বিশ্বসেরা দলের পুরো স্টাফের বেতন যেখানে মাত্র ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো। ফর্মুলা ওয়ানের (রেসিং) কোনো দলের বাজেটও মেসির এই ট্রান্সফার ফির কাছে কিছুই না। ‘টোরো রোসো’ রেসিং দলটির বাজেট মাত্র ১২৪ মিলিয়ন ইউরো! স্কটল্যান্ডের শেটল্যান্ডের উপকূলের একটি দ্বীপের দাম মাত্র আড়াই লাখ পাউন্ড। মেসির দামে ৬০ একরের বেশি এমন দ্বীপ প্রায় ২৫০০ বার কেনা সম্ভব।
No comments:
Post a Comment