এক হাজার ট্রিলিয়ন টন হীরা আছে পৃথিবীতে! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 20 September 2018

এক হাজার ট্রিলিয়ন টন হীরা আছে পৃথিবীতে!




হীরক বা হীরা বা হীরে হল সর্বাপেক্ষা মূল্যবান একটি রত্ন যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট। অন্য ভাষায় হীরক কার্বনের একটি বিশেষ রূপ মাত্র।
পৃথিবীতে খুব কম মাত্রায় হীরক উত্তোলিত হয় বলেই হীরা মহামূল্যবান বস্তু। পৃথিবীতে প্রতি বছর ২৬,০০০ কেজি বা ২৬ টন হীরক উত্তোলিত হয় যার মূল্যমান প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।
কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের চিন্তার থেকে অনেক বেশি হীরা লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর বুকে। তাদের তথ্যানুযায়ী, পৃথিবী অভ্যন্তরে এক হাজার ট্রিলিয়ন হীরা মজুদ রয়েছে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরে এক হাজার ট্রিলিয়ন টন হীরা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল আন্তঃবিষয়ক গবেষক দল সিসমিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেখতে পেয়েছেন বলে এমন তথ্যই জানিয়েছেন।
এর আগে মনে করা হতো পৃথিবীর অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা হীরার পরিমাণ এক ট্রিলিয়নের কাছাকাছি। অর্থাৎ আগের ধারণার চেয়ে এক হাজার গুণ হীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকার কথা জানাচ্ছেন তারা।
এই পরিসংখ্যান জানানোর সময় বিজ্ঞানীরা রসিকতা করে বলেছেন, পৃথিবীতে এতো পরিমাণ হীরার কথা শুনে আবার এটিকে সহজলভ্য ভেবে ভুল করতে নিষেধ করেছেন। কারণ চাইলেই মিলবে না হীরা। গবেষকদের মতে, এর জন্য আপনাকে যেতে হবে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার নিচে পৃথিবীর কেন্দ্রে ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে। আর এই হীরা এক দিনে বা কয়েক বছরে তৈরি হয় না। প্রচণ্ড তাপ ও চাপের প্রভাবে ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর সময়ে গঠিত হয়
যে কেউ চাইলেই মাটি খুঁড়ে এই পরিমাণ গভীরে যেতে পারবে না। এর জন্য লাগবে খুবই উন্নত মানের প্রযুক্তি। রাশিয়ার দ্যা মির ডায়মন্ড মাইন কোম্পানি যারা কিনা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মানবসৃষ্ট গর্ত খুঁড়তে সক্ষম হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ ৫৩৩ মিটার পর্যন্ত গভীরে গিয়েছেন। এটাই যদি বাস্তবতা হয় তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে, কীভাবে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরে এই বিশাল সংখ্যক হীরার কথা বলছেন। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর অভ্যন্তরে সিসমিক প্রযুক্তির সাহায্যে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হীরার আনুমানিক সংখ্যা নিরূপণ করার কাজটি করেছেন তারা। শব্দ তরঙ্গ পাঠানোর মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে শিলা ও খনিজের গঠন, তাপমাত্রা, ঘনত্ব পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad