“যদি কর ছেড়ে দেওয়া হয়, আমি দেশের মানুষকে লিটার-পিছু ৩৫/৪০ টাকা দামে পেট্রল, ডিজেল দিতে পারব।” – দিল্লিতে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে আজ এমনি মন্তব্য করলেন বাবা রামদেব। সাড়া দেশজুড়ে, এমনকি বাইরেও পেট্রোল-ডিজেলের দর বেঁধে রাখতে গিয়ে যখন হিমশিম খাচ্ছে মোদী সরকার এবং অন্যান্যরা, তখন বাবা রামদেবের এমন মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গেছে দেশজুড়ে।
এমনকি, পেট্রোল, ডিজেলকে জিএসটিতে নিয়ে আসারও দাবি জানিয়েছেন বাবা রামদেব। তিনি বলেছেন,-“ এখনও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে পারে মোদী সরকার।”
এমন মন্তব্যের ভীত সত্য হলে, কেন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা কেন্দ্রীয় সরকার? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।বেড়েই চলেছে পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, এই সময়ে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছে প্রশাসন কি ভাবে এই বর্ধিত তেলের দাম কমানো যায়? কিন্তু এসবের মধ্যেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অথাওয়ালে।“পেট্রোল, ডিজেলের লাগামহীন দামে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের , কিন্তু এই বিষয়ে মন্ত্রীদের মাথা ব্যাথার কোন কারণ নেই, কারণ গাড়ির জ্বালানির ওপর বিশেষ ছাড় পান মন্ত্রীরা ৷ তাই যতই গাড়ি চলুক, পেট্রোল লাগুক, দাম নিয়ে তাদের ভাবতে হয় না ৷” এখানে না থেমেই তিনি বিতর্ক বাড়িয়ে আরও বলেন, -“ যতদিন মন্ত্রীত্ব আছে, ততদিন পেট্রোলের দাম নিয়ে চিন্তা নেই ৷”
জ্বালানির দাম বাড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন উত্তর পাওয়া গেলেও, এদিন এমন উত্তরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। ওই মন্ত্রীকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে যেভাবে দাম বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের তাতে সমস্যা বাড়ছে সাধারণের ৷ এমনকি দাম কমানোর দায় রাজ্য সরকারের দিকেই ঠেলে দিয়ে তিনি বলেছেন,- “ যদি রাজ্য কর ছাড় দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও কমতে পারে দাম ৷”
অর্থাৎ, তেলের দাম বাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, তার ওপর মন্ত্রীদের না পাশে দাঁড়িয়ে, এমন বক্তব্যেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

No comments:
Post a Comment