অর্ক রায়, মালদা: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সূচনা ২২ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে হরিয়ানার পানিপথে।এর সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। সারাদেশ জুড়ে যখন বিভিন্ন সংবাদপত্রে এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন আকারে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে তখন দেখা গেল প্রদীপের তলায় কিন্তু অন্ধকার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানার কাজী গ্রামে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার দায়ে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।অসহায় স্ত্রী সাইনুর বিবি পর পর দুই কন্যা জন্ম দেওয়ার দায়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তার স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজনেরা তার অপরাধ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়া।গত সাত বছর আগে এবং আলিফ মোমিনের বিয়ে হয় বিয়ের বছর ঘুরতে ঘর আলো করে আসে এক কন্যা সন্তান আলিফ মমিনের পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। বংশ ধরে রাখার জন্য তার চাই পুত্র সন্তান আবার গর্ভবতী হয়ে পড়েন কিছুদিন পর আবার কন্যা সন্তান জন্ম দেন সাইনুর বিবি। এরপর থেকেই তার উপরে চলে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চাপিয়ে দেওয়া হয় গরীব বাবার কাছে সাইনুর বিবিকে। বাবার বাড়ি থেকে জোর করে আনতে বলা হয় ৫০ হাজার টাকা গরিব বাবা জামায়ের হাতে টাকা না দিতে পারাই অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এর মধ্যেই তার স্বামী আলিফ মমিন ও পরিবারের সকলের নির্দেশে সাহিনুর বিবিকে বন্ধ্যাত্ব করন করানো হয়। তারপর থেকে তার স্বামীর অত্যাচার চুড়ান্ত আকার হয় সহ্য না করতে পেরে ফিরে আসে বাবার বাড়ি। পুত্র সন্তান জন্ম না দেওয়ার কারণেই সাহিনুর কে মেরে ফেলার হুমকি ও অন্য মহিলাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি শুরু করে। ভয়ে বাবার সাথে আইনি দ্বারস্থ হতে মালদা ইংরেজবাজার মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ করে।
অভিযোগ হওয়া সত্ত্বেও কোন বিচার পাইনি সাইনুর বিবি। যেখানে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সেই রাজ্যে কন্যা সন্তানদেরকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প চালু আছে কিন্তু সেই রাজ্যে মহিলা তার সঠিক বিচার না পেয়ে দ্বারস্থ হলেন আদালতে । স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আর্জি জানাতে মালদা জেলা আদালতের দ্বারস্থ সাইনুর বিবি।

No comments:
Post a Comment